ওয়াইড রিসিভার ডিবো স্যামুয়েল সান ফ্রান্সিসকো ৪৯ার্সে ফেরার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর বলেছেন, ২০১৯ সালে যে দল তাঁকে ড্রাফট করেছিল সেখানে ফিরে তাঁর মনে হচ্ছে যেন ঘরে ফিরেছেন।

“সত্যি বলতে, আমার মনে হচ্ছে আমি কখনোই চলে যাইনি,” স্যামুয়েল বলেন। “ফিরে এসে মনে হলো, ‘হ্যাঁ, এখানকার সবকিছু আমি জানি। সবাইকে চিনি। কোচিং স্টাফও আগের মতোই আছে।’ সত্যিই যেন কিছুই বদলায়নি।”
শুক্রবার স্যামুয়েল আনুষ্ঠানিকভাবে ৪৯ার্সের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৭ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ১ বছরের চুক্তি করেন। শনিবারই তিনি অনুশীলন মাঠে ব্যক্তিগত কার্যক্রম সম্পন্ন করেন এবং দলীয় অনুশীলনে প্রায় ১০টি সমন্বিত মহড়ায় অংশ নেন। তিনি ৩টি পাস ধরেন; এর ১টি ছিল কোয়ার্টারব্যাক ব্রক পার্ডির রক্ষণভেদী দীর্ঘ পাস, যা থেকে উল্লেখযোগ্য দূরত্ব অতিক্রম করেন।
জেনারেল ম্যানেজার জন লিঞ্চের মতে, পুরো চুক্তির প্রক্রিয়াটি প্রায় ১ মাস ধরে তৈরি হচ্ছিল। ওয়াইড রিসিভার রিকি পিয়ারসল ডান হাঁটুর পশ্চাৎ ক্রুসিয়েট লিগামেন্টের চোটে পুরো মৌসুমের জন্য ছিটকে যাবেন—এই খবর জানার আগেই ৪৯ার্স স্যামুয়েলকে ফেরানোর কথা ভাবছিল বলে জানান লিঞ্চ।
গত মৌসুমের শুরুতে ট্রেড চেয়ে ৬ মৌসুমের পুরোনো দল ছাড়লেও স্যামুয়েল ও ৪৯ার্স—দুই পক্ষই আবার এক হতে চেয়েছিল। ৪৯ার্স তাঁকে ওয়াশিংটন কমান্ডার্সে পাঠিয়ে বিনিময়ে পঞ্চম রাউন্ডের ড্রাফট পিক পেয়েছিল। তবে স্যামুয়েল জোর দিয়ে বলেন, লিঞ্চ ও প্রধান কোচ কাইল শ্যানাহানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনো বদলায়নি; কারণ চুক্তির আলোচনা ও ব্যক্তিগত সম্পর্ককে আলাদা করে দেখা উচিত।
এই গভীর সম্পর্কগুলোই স্যামুয়েলের নির্বিঘ্ন প্রত্যাবর্তনের পথ তৈরি করেছে। পুরো অফসিজনে তিনি বিভিন্ন বিকল্প যাচাই করে সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন।
“জন ও কাইলের সঙ্গে আমার আলোচনা সব সময়ই খুব ভালো ছিল,” স্যামুয়েল বলেন। “বিষয়টি ঘটবে কি না নয়, শুধু কখন ঘটবে—সেটিই প্রশ্ন ছিল।”
গত মৌসুমে কমান্ডার্সের হয়ে ১৬ ম্যাচে স্যামুয়েল ৭২টি ক্যাচে ৭২৭ গজ অগ্রসর হয়ে ৫টি টাচডাউন করেন; দৌড়েও ৭৫ গজের সঙ্গে ১টি টাচডাউন যোগ করেন। সান ফ্রান্সিসকো ও ওয়াশিংটনের তুলনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি শুধু বলেন, কমান্ডার্সে তাঁর “ভালো সময় কেটেছে”।
অফসিজনে প্রথমবার ফ্রি এজেন্ট হওয়া স্যামুয়েল নিজের উপযোগী দল খুঁজে পাননি। তাই সুযোগের অপেক্ষায় ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের জীবন ও অনুশীলনের খবর ভাগ করতে শুরু করেন।
“প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ ছিল,” স্মৃতিচারণ করে স্যামুয়েল বলেন। “হতাশাজনক ও কঠিন—দুটিই ছিল। তবে ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বড় হওয়া বন্ধু এবং আরও কয়েকজন আমার পাশে ছিল। মাথা নিচু করে কঠোর অনুশীলন করা এবং বিষয়গুলোকে স্বাভাবিক গতিতে চলতে দেওয়া ছাড়া কিছু করার ছিল না।”
এখন সান ফ্রান্সিসকোতে ফিরে স্যামুয়েলের ভূমিকা আগের মেয়াদের চেয়ে ভিন্ন হবে বলেই ধারণা করা যায়; তখন তিনি শ্যানাহানের আক্রমণভাগের কেন্দ্রীয় খেলোয়াড় ছিলেন। এখন দলে অভিজ্ঞ ওয়াইড রিসিভার মাইক ইভান্স আছেন, আর টাইট এন্ড জর্জ কিটল ও রানিং ব্যাক ক্রিশ্চিয়ান ম্যাকক্যাফ্রিরও প্রচুর বল দরকার। স্যামুয়েল বলেছেন, ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে তাঁর কোনো প্রত্যাশা নেই; তিনি শুধু “পরিস্থিতি অনুযায়ী মানিয়ে নেবেন”।
তবে স্যামুয়েলের প্রাথমিক একটি দায়িত্ব জানিয়েছেন লিঞ্চ: কিকঅফ রিটার্নার। দলের কিকঅফ রিটার্নার স্কাই মুর ফ্রি এজেন্সিতে গ্রিন বে প্যাকার্সে যোগ দেওয়ায় স্যামুয়েল অবিলম্বে কিছু রিটার্নের দায়িত্ব নেবেন। আক্রমণভাগে তাঁর নির্দিষ্ট ভূমিকা এখনো নির্ধারিত হয়নি।
“এখনকার গতিশীল কিকঅফ পদ্ধতি রিটার্নকে আবার খেলার অংশ করে তুলেছে,” লিঞ্চ বলেন। “এতে খেলোয়াড়ের অসাধারণ পজিশন নেওয়ার দক্ষতা প্রয়োজন… স্যামুয়েল এই দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন… আমরা ওই ভূমিকায় তাঁকে ব্যবহারের অপেক্ষায় আছি। আক্রমণভাগে তাঁর সামর্থ্য আপনারা আগেই দেখেছেন। তাঁকে সৃজনশীলভাবে ব্যবহারের দারুণ পরিকল্পনা কাইলের আছে বলেই আমার বিশ্বাস।”
স্যামুয়েল আরও একটি ছোট বিষয় মিটিয়েছেন। ওয়াইড রিসিভার জ্যাকব কাউইংয়ের সঙ্গে একটি “ছোটখাটো বিনিময়” করে ক্যারিয়ারের শুরুর ১৯ নম্বর জার্সিটি আবার নিয়েছেন।
শুক্রবার লকার রুমে ফিরে স্যামুয়েল সব সতীর্থের উষ্ণ অভ্যর্থনা পান। ৪৯ার্সের সঙ্গে চুক্তির আগেই কিটল ও ফুলব্যাক কাইল ইউশচেকসহ কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে ফিরে এসে নিজেদের অতিথিকক্ষে থাকার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এমনকি রক্ষণভাগের সতীর্থরাও তাঁর প্রত্যাবর্তনে আনন্দিত।
“সে আক্রমণভাগের প্রাণশক্তি,” লাইনব্যাকার ড্রে গ্রিনল বলেন। “আক্রমণভাগে যখনই উদ্দীপনা দরকার হয়, সে মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। সে আবার আমাদের হয়ে খেলবে জেনে আমরা পূর্ণ আত্মবিশ্বাস পেয়েছি এবং বিশ্বাস করি এ বছর অবশ্যই সফল হতে পারব। আমি তার জন্য আনন্দিত।”
সূত্র: ইএসপিএন
বাংলা তথ্য[0]
বাংলা তথ্য[0]